বাড়ি বাংলাদেশ রায়গঞ্জে এক মাস অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হলো মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে স্বামী সন্তান...

রায়গঞ্জে এক মাস অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হলো মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে স্বামী সন্তান পরিজন

104
0

এম. আবদুল্লাহ সরকার- রায়গঞ্জ প্রতিনিধি ঃ সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভায় এক মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে স্বামী সন্তান ও পরিজনকে অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত করলেন রায়গঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।
আজ রবিবার বেলা ১১ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামীমুর রহমানের নির্দেশনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুবীর কুমার দাস রায়গঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় ঐ পরিবারকে মুক্ত করেন। 
জানা যায়, অবরুদ্ধ থাকা ঐ পরিবারকে বছরের পর বছর পার্শ্ববর্তি প্রতিবেশিরা যাতায়াতের রাস্তাগুলো বন্ধ করে রেখেছিল। দীর্ঘ শালিশী বৈঠকেও সুরাহা না হলে স্থানীয় পৌর মেয়রের শরানাপন্ন হলে তিনি গত বছরের নভেম্বরে এক শালীস বৈঠকে সর্বসম্মত্তিক্রমে ঐ পরিবারকে যাতায়াতের রাস্তা দেয়ার সিদ্ধান্তে উপনীত হোন এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিবাদীদের চিঠি প্রদান করা হয়। কিন্ত কেউই সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এগিয়ে না আসায় চরম বিপদে পড়ে মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে জেসমিন ও তার স্বামীর পরিবার।এতোদিন তারা ছোট একটা গলি দিয়ে যাতায়াত করলেও গত ৪ তারিখে পার্শ্ববর্তি প্রতিবেশির লোকজন অবরুদ্ধ থাকা পরিবারের লোকজনকে গালিগালাজ করলে সে গলিটাও বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ৪ তারিখ থেকে ঐ অসহায় পরিবারটা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠায় কাটতে ঐ পরিবারের পাশে কেউই দাড়ায়নি। এমন এক পর্যায় একদল সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তারা বিষয়টি প্রসাশনের দৃষ্টিমকামনায় সোস্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন অন লাইন পত্রিকায় প্রকাশ পেলে এলাকার চারদিকে শোরগোল শুরু হয়। এক পর্যায়ে এগিয়ে আসে এলাকার ঐ ওয়ার্ডের পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম আকন্দ, মোঃ আলাল মুন্সী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সবুজ আকন্দ, সাবেক কাউন্সিলর নাদির সরকার প্রমুখ।কিন্তু তারাও বিষয়টি সুরাহা করতে ব্যর্থ হয়। ফলে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা পরিবারের পক্ষে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুর রহিমের মেয়ে জেসমিন স্বামী সন্তানের সংসারকে বাঁচাতে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও রায়গঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শহিদুল ইসলামকে অভিযোগটি ফরোয়ার্ড করেন। ওসি শহিদুল ইসলাম এসআই ফরহাদকে বিষয়টি তদন্তের জন্য পাঠালে তিনি প্রাথমিক তদন্তে এর সত্যতার প্রমান পান।
এরই প্রেক্ষিতে আজ বেলা ১১ টায় থানা পুলিশের একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হোন উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভুমি) সুবীর কুমার দাস।তিনি ঐ এলাকার গন্যমানয ব্যক্তি ও পুলিশের সহায়তায় বন্ধ করে দেয়া রাস্তা অবমুক্ত করে অবরুদ্ধ ঐ পরিবারকে মুক্ত করে আনেন।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার ( ভূমি) সুবীর কুমার দাস বলেন, সরকারী ও পৌর বিধিনুযায়ী কোন পরিবারকে কেউই রাস্তা বন্ধ করে অবরুদ্ধ করে রাখতে পারেনা।তাছাড়া ঐ পরিবারে বয়স্ক প্রতিবন্ধী সহ একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মেয়ে সংসার করছে। গত ১ টি মাস ধরে একটি মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে তার স্বামী সন্তান পরিজন নিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে আছে এটা মানবিকতাকে হার মানায়। মৌলিক অধিকার লংঘন। আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিয়েছি। এরপরও কিছু করলে আইননুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে জেসমিন বলেন, এমন একটা দিন পাব আশাই করিনি। আল্লাহ তায়ালার দয়ায় রায়গঞ্জ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা আমাদের চলাচলের রাস্তা উম্মুক্ত করে দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত করায় আমরা তাদের প্রতি চির কৃতঞ্জ থাকব। সেই সাথে কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, জেলা ও স্থানীয় সন্তান কমান্ডের কাছেও কৃতজ্ঞ।
এলাকাবাসী প্রশাসনের কাজে সহযোগীতা করতে পেরে এবং ঐ পরিবারকে মুক্ত করতে পারায় তারাও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে