আজ সোমবার বিকাল ৩:০৩, ১২ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৩শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি
শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এই মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি একে অপরের পরিপূরক। পররাষ্ট্রনীতির সফল বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব, যখন রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুসংহত হয়। বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা ও কূটনৈতিক কৌশলের মধ্যে সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে এই বাস্তবতাই মনে করিয়ে দিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
রবিবার রাতে ঢাকার রেডিসন হোটেলে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (এফএসডিএস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান বলেন, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া দেশের পররাষ্ট্রনীতি কার্যকর হতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করেন, দেশের নৌসীমানা এখনো পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়, যা সামগ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ।
সেনাপ্রধান আরও বলেন, বাংলাদেশে উচ্চমানের গবেষণা হয়, তবে তা কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগের অভাব রয়েছে। তিনি রাজনীতিবিদদের সম্পৃক্ত হয়ে গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব নীতিতে পরিণত করার আহ্বান জানান। এটি ইঙ্গিত করে যে, নীতিনির্ধারকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে, যাতে গবেষণালব্ধ জ্ঞান সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলে বাস্তবায়ন করা যায়।
একটি কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুধু জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, বরং দেশের কূটনৈতিক শক্তিকেও সুসংহত করে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, শক্তিশালী সামরিক অবস্থান থাকলে কূটনৈতিক আলোচনায় দেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সামরিক সক্ষমতা অনেকাংশে পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি গড়ে দেয়।
সেনাপ্রধানের বক্তব্য বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ওপর জোর দেয়। জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গবেষণাকে বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যাওয়া এবং সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলের মধ্যে আরও সমন্বয় আনা এখন সময়ের দাবি। শুধু প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করলেই হবে না, বরং তা কীভাবে জাতীয় ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে ভূমিকা রাখবে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।