আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০:৩৭, ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
আগামী ২৯ মার্চ ২০২৫ ঘটতে যাচ্ছে একটি বিরল সূর্যগ্রহণ, যা মহাকাশ বিজ্ঞান ও সাধারণ মানুষের জন্য এক ব্যতিক্রমী মহাজাগতিক দৃশ্য হতে চলেছে। এই দিন পৃথিবীর নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে, বিশেষ করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং আফ্রিকার কিছু অংশে, মধ্যাহ্নে আচমকা অন্ধকার নেমে আসবে। এই ঘটনা শুধু দৃষ্টিনন্দনই নয়, বরং জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বলয়াকার সূর্যগ্রহণ কী এবং এটি এত বিরল কেন?
এই সূর্যগ্রহণটি হবে একটি বলয়াকার সূর্যগ্রহণ (Annular Solar Eclipse), যা ঘটে যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে কিন্তু সূর্যকে পুরোপুরি আচ্ছাদন করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে সূর্যের চারপাশে আগুনের বলয়ের মতো একটি উজ্জ্বল রিং দেখা যায় – একে বলা হয় “Ring of Fire”। এই দৃশ্যটি সাধারণ পূর্ণগ্রহণ থেকে আলাদা এবং অপেক্ষাকৃত কম দেখা যায়। বলয়াকার গ্রহণ হওয়ার জন্য চাঁদের অবস্থানকে সূর্য থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে হতে হয়, ফলে চাঁদের ছায়া সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, এই সূর্যগ্রহণ শুরু হবে দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে এবং শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে। এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বিকাল ৪টা ৪৭ মিনিটে।
যেসব অঞ্চল থেকে গ্রহণটি দেখা যাবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
তবে বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে গ্রহণটি খালি চোখে দেখা যাবে না।
সূর্যগ্রহণ দেখার নিরাপত্তা নির্দেশিকা
বিরল সূর্যগ্রহণ দেখার সময় অবশ্যই নিরাপদ পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে। খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকালে রেটিনা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এই গ্রহণ দেখতে হলে নিচের সুরক্ষা নিয়মগুলো মানা উচিত:
নাসা এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি গ্রহণটি সরাসরি সম্প্রচার করবে, যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে দেখা যাবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য গবেষণার দারুণ সুযোগ
এই বিরল সূর্যগ্রহণ শুধু দর্শকদের নয়, বরং গবেষকদের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিজ্ঞানীরা এই সময় সূর্যের করোনাল লেয়ার, চৌম্বকীয় তরঙ্গ এবং সৌর বায়ু নিয়ে গবেষণা চালাবেন। সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের বাইরের স্তর (corona) স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যা অন্য সময়ে সম্ভব নয়।
বিশ্বের বিভিন্ন জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা, যেমন NASA, ESA, ও Royal Astronomical Society এই গ্রহণ উপলক্ষে গবেষণা পরিকল্পনা সাজিয়েছে। এই তথ্যগুলো ভবিষ্যতের মহাকাশ মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
কেন এই বিরল সূর্যগ্রহণ চোখে পড়ার মতো ঘটনা?
২৯ মার্চের বিরল সূর্যগ্রহণ ২০২৫ সালের অন্যতম বড় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও এটি বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না, তবুও বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ এটি দেখার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। যারা গ্রহণ দেখতে পারছেন না, তারা অনলাইনে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন।
এই ধরনের গ্রহণ শুধুমাত্র মহাকাশপ্রেমীদের জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যেও চরম কৌতূহল ও আগ্রহ সৃষ্টি করে। সঠিক তথ্য ও সুরক্ষার মাধ্যমে এটি উপভোগ করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।