আজ সোমবার সকাল ৯:৫৫, ১২ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৩শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি
ঢাকার সাভারে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে হত্যার মামলায় গ্রেফতার সাবেক ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. এনামুর রহমানকে বিলাসবহুল প্রাইভেট গাড়িতে করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার পরিবারের ব্যবস্থাপনায় বিলাসবহুল প্রাইভেট গাড়িতে আদালতে পাঠানো নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ সামাজিক গণমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবাদে সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা।
সাভারের আলোচিত কাইয়ুম হত্যা মামলায় সাভার মডেল থানায় ৫ দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার আসামিকে ঢাকার আদালতে প্রেরণের ঘটনা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।
ব্যাপক সমালোচনার মুখে সাভার মডেল থানার ওসি বৃহস্পতিবার বিকালে যুগান্তরকে জানান, বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রিজনভ্যানের স্বল্পতার কারণে পুলিশ রিলেটেড এক ব্যক্তির প্রাইভেট জিপেই ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে আদালতে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, একটি হত্যা মামলায় তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও মামলায় রিমান্ডে আনা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাবেক ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানকে বহনকারী বিলাসবহুল জিপ গাড়িটি মাঝে-মধ্যে ব্যবহার করেন এনামের পরিবারের স্বজনেরা। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। তবে সম্প্রতি গ্রেফতারের পর সাভারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আলোচিত কাইয়ুম হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে তাকে সাভার মডেল থানায় আনা হয়। রিমান্ড শেষে তাকে এ বিতর্কিত গাড়িতে করেই আদালতে পাঠায় পুলিশ।
সাভার মডেল থানা প্রাঙ্গণ থেকে ডা. এনামকে গাড়িতে উঠানো হলেও পরে যাত্রাপথে গাড়িতে এই আসামির পাশে উঠে বসেন তার প্রথম স্ত্রী রওশন আক্তার লাভলী বলে অভিযোগ উঠে।
তবে এই প্রতিবেদককে এনামের প্রথম সহধর্মিণী লাভলী জানান, এটা সম্পূর্ণ ভুয়া ও মিথ্যা গুজব। আমি ওই গাড়িতে উঠিনি।
তবে ঢাকা বিআরটিএ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আলোচিত গাড়িটি সাবিনা আক্তার আলো নামে একজনের নামে রেজিস্ট্রেশন করা।
তবে তার নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত গাড়িটি ডা. এনামের পরিবার ব্যবহারের বিষয়ে নিয়ে সাবিনা আক্তার আলোর স্বামী ফয়েজ আহমেদ বলেন, গাড়িটা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করলেও মাঝে মধ্যে রেন্ট-এ কারে ভাড়া দিয়ে থাকি।
ছাত্র-জনতা হত্যার আলোচিত মামলায় গ্রেফতার অন্যতম শীর্ষ এই আসামির প্রতি পুলিশের এমন নমনীয় আচরণের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছেন নেটিজেনরা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিন্দার ঝড় তুলছেন সাভারে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে প্রথম সারিতে অংশ নেওয়া অনেকেই।
এদিকে এমন ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরের পর সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেছেন ছাত্র-জনতা। অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িত পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা মামলার সব আসামিকে গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।